Monday, March 15, 2021

হিন্দু হয়ে দাড়ি ও স্টাইল করে চুল কাটায় পাঁচ তরুণকে পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে সুনামগঞ্জ জগন্নাথপুরে



সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের রসুলগঞ্জ বাজারে ‘স্টাইল’ করে চুল কাটা ও হিন্দু হয়ে দাড়ি রাখায় পাঁচ তরুণকে পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 এ ঘটনায় লিপন দাস নামে এক তরুণ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ করলে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। পুলিশ আটকদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার দুই নম্বর পাটলী ইউনিয়নের সমসপুর গ্রামের পরিমল শব্দ করের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার ভাতিজা ভূবেশ কর, সুবেন্দু কর, সুবাস কর, নয়ন কর, হৃদয় কর ও প্রতিবেশী তরুণ আনসার সদস্য লিপন দাস রসুলগঞ্জ বাজারের একটি সেলুনে শুক্রবার সন্ধ্যায় চুল ও দাড়ি কাটছিলেন। 


এ সময় সেলুনে আসা মইজপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া, লোহারগাঁও গ্রামের ফুল মিয়া, পাটলী চক গ্রামের আনর মিয়া, আব্দুল্লাহপুর গ্রামের শাহীন মিয়া, পাটলী চক গ্রামের আতাউর রহমান তাদের স্টাইল করে চুল কাটা এবং হিন্দু হয়েও দাড়ি রাখা নিয়ে কটূক্তি করেন। সেলুন থেকে বের হয়ে হিন্দু হয়ে দাঁড়ি রেখেছিস কেন বলে মারধর শুরু করে। পরে পাঁচজনের মাথা ন্যাড়া করে দাড়ি কেটে দেয়।


ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নির্যাতিত আনসার সদস্য লিপন দাস ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ করেন। জগন্নাথপুর থানা পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে সিরাজ মিয়া, আনর মিয়া ও শ্যামল মিয়াকে আটক করে।

নির্যাতিত তরুণ ভূবেশ শব্দ কর ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিয়েতে যাব বলে সুন্দর করে চুল কেটেছি। সেটাই আমাদের জন্য কাল হলো। হিন্দু হয়ে কেন দাঁড়ি রাখব এটাই তাদের প্রশ্ন। পরে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। 

আনসার সদস্য লিপন দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমার পরিচয় দেওয়ার পরও রাস্তা আটকিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হিন্দু হয়ে দাড়ি রাখা যাবে না, স্টাইল করে চুল রাখা যাবে না বলেছে। এক পর্যায়ে মারধর শুরু করে। শেষে চুল ন্যাড়া করে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গিয়ে আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। রাতে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

জগন্নাথপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে সবাই আবদ্ধ। সবাই মিলেমিশে বসবাস করছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।





শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: