Friday, November 29, 2019

শেখ হাসিনা দেবাশীষ পালিতকে মূল্যায়ন করবেন



দেবাশীষ পালিত ১৯৮১ সালে ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাউজানের সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রচারণা থেকে তৎকালীন এনডিপি ক্যাডার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী কুখ্যাত রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লালিত সন্ত্রাসীরা দেবাশীষ পালিতকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতিত শেষে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে শোপর্দ করে। অথচ সেই দেবাশীষ পালিত অপরাধ ছিল আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা। রাউজানকে এক সময় সাকা চৌধুরীর গং দের রাজত্বে সন্ত্রাসের জনপথ বলা হতো ঠিক সেই সময়ে ছাত্রলীগের একজন বিপ্লবী নেতা দেবাশীষ পালিত। ওয়ার্ড ছাত্রলীগ থেকে ১৯ বছর বয়সে রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন বেশ কয়েকবার মিথ্যা মামলা দিয়ে দেবাশীষ পালিতকে পুলিশি নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাত-বিরাত নিজের বাড়িতে থাকতে পারতেন না, প্রতিনিয়ত এনডিপি ক্যাডাররা হত্যা করার জন্য তেড়ে বেড়াতেন কারণ রাউজানে আওয়ামীলীগের দূর্গ তৈরি হয়ে যাচ্ছিলো। দেবাশীষ পালিতের নেতৃত্বে ছাত্রজনতা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। সাকাবাহিনীর মিথ্যা বানুয়াট একটি মামলায় দেবাশীষ পালিত জেলে থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হলে ২৩ বছর বয়সী দেবাশীষ পালিতকে শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। দেবাশীষ পালিত উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরথেকে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপে ছাত্রলীগের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন যার ফলাফল স্বরুপ স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত থেকে চুয়েট দখল, নিজামপুর কলেজ দখল সহ বিভিন্ন কলেজ ও উপজেলার ছাত্র রাজনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেন। চুয়েট দখলের সময় পুলিশের হাত গ্রেফতার হন, মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন যায়গায় দেবাশীষের মুক্তির জন্য গণ আন্দোলন হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িতে রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে আন্দোলন করেছিল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশক পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামে আলোচিত এক ছাত্রনেতার নাম ছিল দেবাশীষ পালিত। অসংখ্য বার চট্টগ্রাম শহর সহ বিভিন্ন যায়গায় দেবাশীষ পালিতকে হত্যা করার জন্য গুলি করা হয়েছিল, সেই সময়টায় মিরাক্কেল ভাবে প্রতিটা হামলা থেকে দেবাশীষ পালিত বেচে গেলেও অনেক সহ-যোদ্ধা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। আওয়ামীলীগের কঠিন সময় থেকে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেবাশীষ পালিতকে চেনেন। তখন মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাত্রনেতা ছাত্রলীগ করতেন নির্ভয়ে, রাউজানে আওয়ামীলীগের নাম নিতেও ভয় পেত সাধারণ মানুষ এনডিপি-বিএনপি জামাতের ক্যাডারদের ভয়ে। দেবাশীষ পালিতকে শেখ হাসিনা একবার বলেছিলেন দেবাশীষ তুমি ঢাকায় চলে এসো, রাউজানে থাকলে তোমাকে তারা মেরে ফেলবে প্রতিউত্তরে দেবাশীষ পালিত বলেছিলেন প্রিয়নেত্রী আমি রাউজান থেকে চলে আসলে আমার সহ-যোদ্ধা করুন অবস্থা হবে। আপনি আমাকে দোয়া করবেন এই অপশক্তি কখনো ক্ষতি করতে পারবেনা সত্যের জয় হবেই হবে। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দেন দেবাশীষ পালিত। ছাত্রলীগ করার অপরাধে দেবাশীষ পালিতের পরিবারকেও জেল খাটতে হয়েছে রেখাই পায়নি মা-বাবা-ভাই-বোন কেউই সবাইকে পুলিশি নির্যাতন করেছে সাকা চৌধুরী। রাউজানে যারা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্টা করার জন্য নিবেদিত দেবাশীষ পালিত তাদের মধ্যে অন্যতম। তৎকালীন ১৯৯৯ সালে রাউজান পৌরসভা গঠিত হলে ৩২ বছর বয়সে সাকা বাহিনীর প্রার্থীদের বিপুলভোটে পরাজিত করে রাউজান পৌরসভার প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন, ক্রমান্বয়ে অগ্নি পরিক্ষায় সাংগঠনিক অসীম দক্ষতা স্বরুপ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেড়িয়ে ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে অসীম বিরোধিতা পরও নৌকা নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বৃহত্তর চট্টগ্রামে দেবাশীষ পালিতের মতো আলোচিত ও ত্যাগী নেতা কমই আছে তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা আওয়ামীলীগে ত্যাগী দের মূল্যায়ন করা হলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেবাশীষ পালিতকে মূল্যায়ন করবেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: